1089>|| গুণে ভরা পান্তা ভাত || +(2)

 1089/1>|| গুণে ভরা পান্তা ভাত ||

1088/2>|| পান্তাভাতের মজা ||

1089/3 || পান্তা পালোয়ান ||

============================

1089>|| গুণে ভরা পান্তা ভাত ||

          <-----আদ্যনাথ----->

পান্তাভাতের গুণগাণ করেণ গুণীজন,

নানা জনে নানা ভাবে করেণ পান্তার বর্ণন।

যুগে যুগে পান্তার মাহাত্ম হয়েছে বর্ণন,

সুর-অসুর জনে করেছেন আদর জতন।


খাদ্যের সেরা উৎকৃষ্ট  সহজ সরল,

পান্তার প্রভাবে দূর হয় অন্ত্রের গরল।

শরীর মন রাখে শীতল গ্রীষ্মের তাপদাহে,

দূরেযায় ক্লেশ-ক্লান্তি শীতল পান্তা সেবনে।


সব খাবারের সেরা পান্তা ভাত হয়,

বাংলা,বিহার,আসাম উড়িষ্যায়।

সকালে দুপুরে সকলের মনমাতায়,

গ্রীষ্ম কালে পান্তার তুলনা কি আর হয়।


সবার প্রিয় পান্তা পিয়াজ লঙ্কা মেখে,

পান্তার তুলনা নাই ইলিশ ভাজার সাথে।

গ্রীষ্মে বাংলা,বিহার, উড়িষ্যায় তাপ যত বাড়ে,

তাপের সাথে পান্তার কদর ততোই বাড়ে।


পান্তার যতই করি গুণগাণ,

কারুরই তুলনা হবেনা পান্তার সমান।

একদিন ছিল অচ্ছুৎ ধনী জনের ঘরে,

আজ বুজেছে পান্তার গুণ শহরের ঘরে ঘরে।


একদিন ছিল গরিবের পেট ভরার খাবার,

আজ গুনে পূর্ন তাই সকলের আদরের আহার।

পান্তার পুষ্টিগুণ সকলেই বুঝেছে,

তাইতো আদরে পান্তা খেতে শিখেছে।


রাতভর ভিজিয়ে ঠান্ডা জলে, 

পিয়াজ লঙ্কা দিয়ে খেতে হবে সকালে।

পুষ্টি, ভিটামিন ও মিনালের ভরপুর,

সহজে মেলে ল্যাকটিক অ্যাসিডেরপুর।


পান্তাভাতের নাই তুলনা,

দুরকরে ক্লান্তি ও সকল বেদনা।

পান্তা জমে পিয়াজ ও লেবুর সাথে,

পান্তার আদর 'মা' দুর্গার শারদ দশমীতে।


পান্তা ক্লান্তি ঘুচায় শরীরে দেয় বল,

তাইতো পান্তা যোগায় সুপারফুডের বল।

অসাধারন খাদ্য গুণে ভরপুর পান্তাভাত,

গ্রীষ্মে বাড়ন্ত আদর চাহিদার দাওয়াত।


পান্তা ভাতে আছে অসাধারণ গুণ,

তাইতো সকলে মানে শ্রেষ্ঠ মানের গুণ।

পান্তা গুণপূর্ন ব্যাকটেরিয়ায় হয় জাড়িত,

বাঙলার সংস্কৃতির সাথে নিবিড়ে জড়িত।


কতগুণ গাই হবেনা শেষ কথন,

পান্তা ভাত ও ঠান্ডাজলের মিশ্রণ।

তারভর গাজন, সকালে হয় সুপার ফুড, 

বলিষ্ঠ শরীর গঠনে সর্বশেরা ফুড।


পান্তাভাত একটি অতি প্রসিদ্ধ সুপারফুড,  

পান্তা ভাত  অসাধারণ গুণমুগ্ধকর ফুড।

পান্তা ভাত, বিশেষ করে গরমকালে, জনপ্রিয় ও স্বাস্থ্যকর খায় সকলে।


এটি তৈরি হয় ভাতকে কিছুক্ষণ ঠান্ডা জলে ভিজিয়ে রেখে, 

যা হজমে সাহায্য করে এবং ল্যাকটিক অ্যাসিড ব্যাকটেরিয়া তৈরি করে, 

যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বটে।


হজমশক্তি বৃদ্ধি করে। 

গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যা নিরাময়ে সাহায্য করে। 

অন্ত্রকে শীতল রাখে। 

ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে এবং চুলকে সুন্দর করে। 


পান্তা ভাতে ল্যাকটিক অ্যাসিড ব্যাকটেরিয়া থাকে, 

যা স্বাস্থ্যেকে সুন্দর বলিষ্ঠ রাখে।

পান্তার উপকরণ গুলি ভাত, জল, লবণ, 

আর থাকে সাথে,

কাঁচালঙ্কা, কাঁচা পেঁয়াজ, সরষের তেল (ঐচ্ছিকভাবে) থাকে।


পান্তা ভাতের সাথে পরিবেশনের বার্তা,

ইলিশ মাছ, আঁচার, ডাল ভর্তা, আলু ভর্তা। 

পান্তা ভাতকে ওডিশায় পাখালা, আসামে পোইতা ভাত, বিহার ও ঝাড়খণ্ডে বাসিয়া ভাত, 

এবং তামিলনাড়ুতে কাঞ্জি নামে জানে। 


পান্তা ভাতে  আয়রন, পটাসিয়াম, সোডিয়াম এবং ক্যালসিয়াম  ভরপুর,

এছাড়া আরও আছে পুষ্টিগুণ প্রচুর ।

আর আছে নানা ধরনের পুষ্টিকর খনিজ 

যাকে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বলে।


সাধারণ ভাতে থাকে 21% মিলিগ্রাম 

ক্যালসিয়াম,

আর পান্তা ভাতে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৮৫০ মিলিগ্রাম। 

অতএব পান্তা ভাতকে উচিত নয় তুচ্ছ করা,

পান্তা ভাত সম্পুর্ন স্বাস্থ্য গুণে ভরা।


এবার হরি হরি বলে পান্তার গুণগান করো,

সব খাবার ছেড়ে গ্রীষ্মে পান্তা খাওয়া শুরুকর।

নিজে খাও অপরকে খাওয়াও ইলিশ মাছ সহযোগে,

শরীর স্বাস্থ্য সুন্দর হবে তৃপ্ত হবে মন আদর সোহাগে।


এ-হেন তপ্ত-দহনে পেট ভরে পান্তাভাত খাও,

সকাল বিকেল ঈশ্বরের গুণ-গাণ গাও,

তবেই ঈশ্বর হবেন অতিশয় তৃপ্ত-তুষ্ট,

আমাদের সকলকে রাখেন সবল সুস্থ।

    <-----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->

      09/04/2025::--03:15:20 pm

===========================

   1089/2>|| পান্তাভাতের মজা ||

            <-----আদ্যনাথ---->

পান্তাভাত খাওয়াটাই এক বিশেষ স্টাইল,

নয়তো মজাটাই হবে ফোকলা দাঁতের স্মাইল।

শুকনোলঙ্কাপোড়া,নুন,লেবু পিয়াজ সহযোগে,

আনন্দে খেতে হবে রসিয়ে চিবিয়ে।


পান্তার ইতিহাস দিদিমা ঠাকুরমা মানেন,

ওনারাই পান্তার আদ্যোপান্ত  জানেন।

ওনাদের কাছেই শিখতে হয় পান্তাখাওয়া,

নইলে ঠগতে হবে যেন ভাতেজল খাওয়া।


পান্তা কেউ খান অভাবের তারণে,

কেউ বা খান  পরিস্থিতির কারণে।

কেউ চেখে দেখেন অন্যের কথা শুনে,

কেউ খান নিজ দম্ভের কারণে আকারণে।


যে যেভাবেই খায় সকলেই মজা পায়,

একবার খেলেই আবার খেতে চায়।

তবে কেউ খায়, কেউ দেখে, কেউ করে আশা,

পান্তায় তৃপ্ত হয় সকল মনের আশা।


সুগন্ধি পান্তায় মেটে একান্ত মনের আশা,

পান্তা সরস গম্ভীর অনাবিল  ভালোবাসা।

বৈশাখ ষষ্ঠী মাসে বাড়ন্ত কদর পান্তার,

গ্রীষ্মের দুপুরে চাহিদা  শীতল পান্তার।


পান্তা খাওয়া ইতিহাস বড়ই বিচিত্র,

আজও চলছে পরীক্ষা নিরীক্ষা পান্তার চরিত্র।

পান্তা খাওয়া নিশ্চিত স্বাস্থ্য সম্মত,

পান্তার আছে হরেক গুণ অতি বাড়ন্ত।


কত পূজাপার্বনে পান্তা খাওয়া চলে,

শীতল ষষ্ঠী, দুর্গা দশমী,মনসা পূজার কালে।

পান্তাভাতের বিশেষ ভোগ মাকে নিবেদন,

পান্তাভাত প্রাসাদের বিশেষ মান্যতা তথন।


আর কত বলি কত লিখি পান্তার গুণগাণ,

ভাতের সেরা পান্তায় হয় শরীরের কল্যাণ।

সুগন্ধীপান্তা খাদ্য রসিকের তৃপ্ত রসনা,

যে খায় সেই বোঝে পান্তার সুপ্তমননা।

    <-----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->

         09/04/2025::--রাত্রি11:45

==========================


     1089/3 || পান্তা পালোয়ান ||

সে ছিলো এক পান্তা পালোয়ান,

গায়ে দিতো জব্বার আলোয়ান,

শীত,গ্রীষ্ম,বর্ষা,

আলোয়ান টাই ছিল ভরসা।

আর ছিল কয়েকটা মাটির হাঁড়ি,

দুইবেলা পান্তা খেতো কারি করি

সবাই বলে সাত-গ্রামের পালোয়ান ভারী,

রোজ পান্তার বরাদ্দ ছিল সাত হাঁড়ি।

পালোয়ানের কাছে চলতোনা 

কোন জারিজুরী,

সকলকে টেক্কা দিত দিয়ে তুরি।

পান্তা খেয়েই তার বাড়ন্ত শক্তি,

দুইবেলাই লড়তো ভীষণ কুস্তি।

আশে পাশের সাতগ্রাম শহরের,

সব পালোয়ানদের একটাই যুক্তি,

পালোয়ানের হাত থেকে চাই মুক্তি।


খড়ের ছাউনি, ঘরছিলো এক চালা,

চাল দিয়ে চাঁদব দেখা যায়, সন্ধ্যা বেলা,

অথবা চিৎ হয়ে শুয়ে পূর্ণিমার রাত্রি বেলা।

দিনে ধানকুড়োয় মাঠে গিয়ে, 

পালোয়ান কাঁধে লম্বা এক বস্থা নিয়ে।

নিজের বলতে আর নাইকোন জমি,

যা ছিলো সকলি বিক্রি গেছে 

পান্তা জোগারের কলে।

এখন আছে ওই ঘরটুকুই

পান্তা রাখবার ঠাঁই টুকুই।

তবুও হেঁকে বেড়ায় পালোয়ান, 

গায়ে দিয়ে জব্বার আলোয়ান।

তল্লাটের কেউ কি আছে

কুস্তি লড়তে, 

পান্তা পালওয়ানের সাথে।

  <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->

     10/04/2025::11:25 am

=====================







Comments

Popular posts from this blog

1087> || আজ হোলি ||-2025

1093>|| মৃত্যু::---||

1088>|| হার--জিত ||