1076>|| কুম্ভমেলা ||(1 to 3)
1076>|| কুম্ভমেলা ||(1 to 3)
1>|| ত্রিবেণী সঙ্গম::||
2>|| কুম্ভমেলা ||(কবিতায় )
6>|| প্রয়াগ কুম্ভ মেলা ||
==========================
1>|| ত্রিবেণী সঙ্গম::||
<------আদ্যনাথ----->
ত্রিবেণী সঙ্গম, তিন নদীর সঙ্গম।
গঙ্গা, যমুনা ও সরস্বতী নদীর সঙ্গম।
সত্য,আনন্দ, জ্ঞান, তিন প্রবাহের সঙ্গম।
তাইতো প্রয়াগ শব্দ উচ্চারণ মাত্রেই
মুক্ত হওয়া যায়,অহং ত্যাগ হয়,
সমস্ত কষ্ট লাঘব হয়।
সেইহেতু কুম্ভ অর্থাৎ শুভ গ্রহ ও নক্ষত্র যোগে,পবিত্র স্নানের তরে ত্রিবেণী সঙ্গম।
গঙ্গা, যমুনা ও সরস্বতী তিন নদী প্রবাহ সঙ্গম,
তিন নদীর মিলন, তিন প্রবাহের মিলন,
সত্য, আনন্দ ও জ্ঞানের মিলন।
ইড়া, পিঙ্গলা, এবং সুষুম্নার মিলন,
সহস্রারেই ত্রিবেণী সঙ্গম।
এ-হেন শ্রেষ্ঠ পবিত্র সঙ্গমে দিলে ডুব,
মনের গ্লানি ও সকল পাপ হবে দূর।
তাই ডুব দিতে হয় সঙ্গমে,
করতে হবে মন্থন,
যেমন হয়েছিল সমুদ্র মন্থন,
আমাদের এই অন্নময় শরীরই সমুদ্র,
সেই সমুদ্রকে করতে হয় মন্থন।
এই অন্নময় শরীরকে মন্থন করলেই
লাভ হয় সত্য ,আনন্দ,জ্ঞান রূপী অমৃত।
তখন ইড়া, পিঙ্গলা প্রবাহ সুষুম্না কে ঘিরে,
ষড় চক্র সজাগ হয়ে মিলিত সহস্রারে গিয়ে।
ত্রিবেণী সঙ্গমেই প্রাপ্তি হয় সত্য, আনন্দ ও জ্ঞান রূপ অমৃতের সন্ধান।
স্নান করা মানেই জলে ডুব দেওয়া,
সচ্চিদানন্দ রূপ জলে ডুব দেওয়া।
শরীর রুপি সমুদ্রে সচ্চিদানন্দ রূপ জলে
ডুব দিতে হয় শুদ্ধ মনে।
যে-মন যত পবিত্র শুদ্ধ সেই মন ততোই অমৃতের অধিকারী হন।
স্ত্রী শক্তির সত্য মাতৃরূপ তিন নদী
শিবশক্তি, নারায়ণ,ও ব্রহ্মা,তিন শক্তির মিলন,
গঙ্গা, সরস্বতী, যমুনা-র মিলন,
শরীর মধ্যে ইড়া, পিঙ্গলা, আন্তঃসলীলা সুষুম্নার মিলন।
সহস্রারে মিলন,প্রয়াগরাজে মিলন।
শরীরেই ত্রিবেণী সঙ্গম।
সৃষ্টি কর্তা ব্রহ্মার স্ত্রী সরস্বতী,
সৃষ্টির রক্ষা কর্তা নারায়নের স্ত্রী লক্ষ্মী,
সৃষ্টির ধ্বংসের কর্তা শিবের স্ত্রী দুর্গা।
শিব শংকরের জটা থেকে জন্ম গঙ্গার।
আবার শিবই ধ্বংসের কর্তা।
এ-হেন ত্রি শক্তির মিলন ত্রিবেণীতে,
তাইতো ত্রিবেণীর পুত পবিত্র জল জীবের কল্যাণের তরে।
এইতিন মাতৃ শক্তির মিলন,
এইতো সৃষ্টির অমোঘ কারণ,
স্বয়ং পৃথিবী তাঁরে করছে ধারণ,
শরীর পৃথিবীর সৃষ্টি, প্রকৃতির কারণ,
পৃথিবীতেই লয়, প্রকৃতির কারণ।
যা-আছে পৃথিবী তথা ব্রহ্মাণ্ডে,
তা-সকলই আছে এই শরীর খণ্ডে।
সৃষ্টির বীজ প্রকৃতি করে ধারণ,
মনুষ্য শরীর প্রকৃতির লীলার কারণ।
ইড়া পিঙ্গলা, সুপ্ত সুষুম্নাকে বেণীর মতন বেষ্ঠন করে প্রবাহিত মনুষ্য শক্তির
জীবনী শক্তির সুপ্ত কারণ।
তাইতো সদাসর্বদা শরীরমধ্যেই চলছে
মহাকুম্ভের মেলা,
এ যেন প্রকৃতির এক অদ্ভুত লীলাখেলা।
সৃষ্টি, স্থিতি, লয়, প্রবাহ প্রলয়,
সকলি প্রকৃতির লীলা ময়,
গঙ্গা যমুনা প্রবাহ সুপ্ত সরস্বতীকে ঘিরে,
ইড়া পিঙ্গলা বহিছে সুপ্ত সুষুম্নাকে ঘিরে।
প্রকৃতির সৃষ্টি প্রকৃতির খেলা
সৃষ্টি ও প্রলয় চলে দুই বেলা।
কুম্ভ গ্রহ নক্ষত্রের যোগের খেলা,
মনুষ্য জন্মও সৃষ্টি প্রবাহের খেলা।
ভারতীয় দর্শন বলে যাহা শীর্ণ হয়, তা-হা-ইতো শরীর।
জন্মিলে মরিতে হবে , অমর কে কোথা কবে,
"চিরস্থির কবে নীর, হায় রে জীবন -নদে?"
তাই-তো কুম্ভস্নান অমৃত লাভের লোভে।
16/02/2025::03:20 pm
<-----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->
==========================
■★★★★★★★★★★★★★■
2>|| কুম্ভমেলা ||(কবিতায় )
<----আদ্যনাথ--->
গিয়েছিলাম প্রয়াগে ত্রিবেণী সঙ্গমে,
2001 সালের জানুয়ারিতে পূর্নকুম্ভে,
গঙ্গা, যমুনা, সরস্বতীর ত্রিবেণীসঙ্গমে,
শ্রেষ্ঠ তীর্থ মেলা প্রয়াগকুম্ভ সঙ্গমে।
প্রয়াগকুম্ভে ছিল অজস্র মানুষের ভীড়,
লক্ষ,লক্ষ, মানুষ যেন সকলেই অস্থির।
প্রশাসন ছিল অতিশয় শক্ত নিয়মনিষ্ঠ,
সকল ব্যবস্থাই ছিল সুন্দর ও সুষ্ঠ।
সকলের মনে ছিল নিষ্ঠা ও ধার্মিক যুক্তি,
কুম্ভস্নানে সমস্ত পাপের হবে মুক্তি।
সকলের ভাবনা চিন্তা পেতেচায় মুক্তি,
পার্থিব জীবন-মৃত্যুর চক্র হতে মুক্তি।
তাইতো সার্থক করতে এই জীবনকে,
স্নান জরুরি প্রয়াগের ত্রিবেণী সঙ্গমে,
ভোর4তেই লাইন দিয়ে স্নানের ভিড়ে,
অজস্র মানুষের লাইন চলছিল ধীরে।
তুলসিদাসী রামায়ণের একটু আছে মনে।
"মাঘ মকরগত রবি জব হই,
তীরথপতিহি আব সব কোই,
দেবদনুজ কিন্নর নরশ্রেণী,
সাদর মজ্জহি সকল ত্রিবেণী।"
এই জানুয়ারি মকর সংক্রান্তিতে,
লক্ষ-লক্ষ মানুষ ব্যাকুল তীর্থস্নানেতে,
নাগা-সাধু,গৃহি-মানুষ সকলেই মহা-উদ্যমে
প্রয়াগরাজ-কুম্ভ-ত্রিবেণী-সঙ্গমে।
দেখলাম কুম্ভযেন অজস্র সাধুর মেলা,
নানান দেশ বাসি দেখেন সাধুর মেলা,
নানান সাধু আর মানুষের সহবাস,
গাঁজার ধোঁয়া আর অমৃত পাবার আশ্বাস।
গাঁজার আড্ডা গুলিতেই ভিড়ছিলবেশ,
গাঁজার গন্ধে ভরপুর মেলার পরিবেশ।
মনেহয় গঞ্জিকার মাহত্যই অধিক শ্রেষ্ঠ,
বাতাস যেন গঞ্জিকার ধোঁয়ায় কৃষ্ট।
সাধুসন্তদের 'গঞ্জিকা, সেবনের কেরামত,
'প্রেমতক্তি'তে 'রতনকাটারি'র কসরত।
কল্কেতে 'টিকলি' লাগিয়ে গাঁজা ভরে,
ভেজা ‘সাফি’ জড়িয়ে,কল্কেতে আগুন দিয়ে ধরে।
বম-বম বলে চার আঙুল দিয়ে ধরে,
বাম হাতের আঙ্গুল দিয়ে জড়িয়ে ধরে।
কেউ টানে কেউ চায় কেউ করে আশা,
কুম্ভমেলা যেন গঞ্জিকা সেবকেই ঠসা।
সেই গঞ্জিকার ধোঁয়া আর কুয়াশায় মিলে,
চারিদিকে যেন অন্ধকার ঘনিয়ে আসে।
নূতনেরা বুঝি খক্ক খক্ক কাশে,
তবুও চলে বম-বম বোলে মৌতাতের বলে।
কুম্ভে গাঁজার টানে সাধু-সন্ন্যাসীগণ,
'তুরীয় আনন্দে ' মন বুঁদ হয় তখন।
কৌপীনধারী বাবারা দিনের পর দিন,
গাঁজার মৌতাতেই থাকেন সারাদিন।
বাউলরাও গঞ্জিলকাকে দেন বড়ই আদর-সন্মান,
বৈষ্ণবদের বড় কল্কেতে হয় না মৌজ ,
ওনাদের প্রেমের ছোট কল্কে,
যাকে ওরা বাঁশি বলে ডাকে।
সেই বাঁশির মৌতাতে ওরা ঝুমতে থাকে,
কল্কের মাহাত্যে কৃষ্ণ প্রেমের জোয়ার ডাকে,
কৃষ্ণ প্রেম হয় কি গঞ্জিকা বিহনে,
বৈষ্ণবীগণও মাতোয়ারানকৃষ্ণ প্রেমে।
নৃত্যের তালে তালে গঞ্জিকার ফোয়ারা,
সেই মৌতাতেই কৃষ্ণনামে মাতোয়ারা,
মহিমা অপার অনন্ত কৃষ্ণের নাম ধরি,
যেই নাম সেই কৃষ্ণ ভজ নিষ্ঠা করি।
কল্কের অন্তরে আছেন প্রেমের শ্রীহরি,
বৈষ্ণবীর মুখে শোন নাম সংকীর্তনের বুলি,
নৃত্যের তালে অলৌকিক গঞ্জিকা সেবন,
নিশ্চিত-বিশ্বাস হয় সর্ব পাপ বিমোচন।
কৃষ্ণ নাম হরি নাম বড়ই মধুর,
যে কল্কের গুনেতে কৃষ্ণ ভজে সে বড়ই চতুর।
মৌতাতে বিভোর হয়ে বলো হরি বোল,
নাম মাহত্য গুনে বাজাও নিত্যানন্দের খোল।
হরে কৃষ্ণ, হরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ বোল,
হরে রাম, হরে রাম, রাম রাম বোল।
কল্কের ইতিহাস জানাই আদর করে,
গাঁজা কাটার ছুরি টি ‘রতনকাটারি’বটে,
যে কাষ্ঠে গাঁজা কাটে তাকে ‘প্রেম তক্তি’ বলে।
আর কল্কের তলায় জড়ানো কাপড়েকে,
'সাফি’নামে জানেন গঞ্জিকাপ্রেমী সকলে।
কল্কের ভিতরে নিচের ত্রিকোণ পাথরটি,
'টিকলি'র মাহত্য অনেক খানি খাটি।
কুম্ভ তো দেবাসুরের সংগ্রামের কথা
অমৃতের উপচে পড়ার গল্পকথা,
আর মর্তে বল্লম তরবারি হাতে সাধুনাগা, সকল সাধুদের শাহি স্নানের দৃশ্য দেখা।
প্রয়াগকুম্ভে স্নান সেরে বহু মানুষ যান
আকবরের দুর্গে,
আদরে পুজো দেন সেখানে অক্ষয়বটে,
যাকে ঘিরেই প্রয়াগের দুর্গ আজও আছে বটে,
সেই দুর্গ ও অক্ষয়বট আছে সেনাবাহিনীর অধীনে।
কুম্ভতেই দুর্গের দুয়ার থাকে খোলা,
কুম্ভ,মাসাধিক কালব্যাপী অস্থায়ী মেলা,
যেখানে শৈব দশনামী নাগা ও বৈষ্ণব বৈষ্ণবী,
আর কাপালিক,তান্ত্রিক,ফকির, শিখ সন্ন্যাসী, কবীরপন্থী।
সন্ত রুইদাসপন্থী চারিদিকে তাঁবুর মেলা,
নানা জাতী, নানা মত,নানা পথ, সঙ্গমে,
এক সাথে মেলা।
এ-হেন সর্বধর্ম মলিনই কুম্ভমেলা।
মতভেদ থাকলেও পাশাপাশি করেন স্নান
একই মাহেন্দ্রক্ষণে,
ত্রিশূলধারী,ভস্মাচ্ছাদিত নাগাসন্ন্যাসীদের শৃঙ্খলার কারণে।
কুম্ভমেলা এক চলমান সংস্কৃতির ধর্মীয় অনুষ্ঠান
যেখানে পূর্ব নির্ধারিত ক্ষণেইহয় শাহি স্নান।
কুম্ভতে দেখি আধুনিকতার ছোঁয়ার ছক,
নাগাসন্ন্যাসীরাও আজ মোবাইল, বাইক ধারক,
কারুর জিপ গাড়ি, কারুর চলেনা বহু মূল্য কার ছাড়া।
তাঁরা দেখান নানান কসরত বাজির খেলা।
কোন আখড়া রাখেন উট হাতি, ঘোড়া,
বসেন বহু মূল্য রত্নের সম্ভার সাজিয়ে,
পুরাকালে আসতেন রাজা-মহারাজারা,
আজ রাজা নাই,আছেন সাধু মহারাজেরা
কুম্ভেআজও আছে লক্ষ লক্ষ ধার্মিক মানুষের ভিড়,
গৃহী-সাধুদের আদানপ্রদানের ভিড়,
প্রয়াগকুম্ভ কেবল ধার্মিক তীর্থ মেলাই নয়,
এখানে আখড়ার সাধুদের পদোন্নতিওহয়।
গঞ্জিকার ধূম্রজালে আচ্ছন্ন সেই পরিসরে,
নির্বাচিত হন ‘শ্রীপঞ্চায়েতি আখড়া’র
কর্মাধ্যক্ষ গণে।
সাধুদের এ এক গণতান্ত্রিক চেতনা,
সমাজে হিন্দুধর্মকে রক্ষার শুভ ভাবনা।
অধম আমি সামান্য জ্ঞানে করি জতন,
ধৃষ্টতা-বলে, মহাকুম্ভের করিলাম বর্ণন,
ভুল ত্রুটি জন্য করজোড়ে ক্ষমা প্রার্থনা
চাহিলাম প্রথম,
নহি লেখক, নহি পন্ডিত,সামান্য জ্ঞানে
চাক্ষুস করেছি যাহা, করিলাম বর্ণন।
<-----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->
------16/02/2002::07:30:am----
===========================
■★★★★★★★★★★★★★■
3>|| প্রয়াগ কুম্ভ মেলা ||
<------আদ্যনাথ----->
দেখলাম প্রয়াগ কুম্ভে,
দুইচোখ মেলে ত্রিবেণী সঙ্গমে,
সর্বত্যাগীসাধু আর গৃহী মানুষে,
এক সাথে পাশাপাশি এক বালুচরে।
সকল সাধুসঙ্ঘ ব্যস্ত নিজ পতাকা তলে,
সদা ব্যস্ত সনাতন হিন্দু ধর্ম রক্ষার বলে।
প্রতিটি সাধু বলীয়ান নিজ শক্তি বলে,
সকলেই ব্যস্ত নিজের চাহিদা পূরণে।
নাগাসাধুরাই কুম্ভের মূল আকর্ষণ,
সাধারণ মানুষের চাহিদা পুণ্য আহরণ।
শুদ্ধ মনে,স্নানেই মাহাত্ম্য প্রয়াগ কুম্ভে,
সকলেই পাপ মুক্ত হতে চায় কুম্ভে।
জীবনের যত পাপ ও অন্যায়,
ত্রিবেণীর জলে সকল ধুয়ে নিতে চায়।
তাইতো কুম্ভে একবার ডুব দিতে চায়,
প্রয়াগকুম্ভে জীবন উদ্ধারের কামনায়।
সাধুদের উদ্যেশ্য ধর্মরক্ষা ও ধর্মেরপ্রচার,
দেখলাম কত ভেলকী,কসরত সাধুদের,
ধর্মরক্ষা ও প্রচার উচিত সততার কারন,
এতো ভেলকী, কসরতের কি প্রয়োজন।
বেদান্তের মতে পুণ্য হল অদৃশ্য সম্পদ,
মানুষের কাঙ্খিত চারটি সম্পদের প্রথম সম্পদ,
অন্য তিনটি সম্পদ অর্থ, কাম ও মোক্ষ,
মানুষ মাত্রেই একান্ত চাহিদা ও লক্ষ্য।
মনেহয় কুম্ভ সনাতনহিন্দু ধর্মকে ঘিরে,
সাধুদের কেরামত আচার ও প্রচারের তরে
শ্রী আদি শঙ্করাচার্যের 'দশনামী সন্ন্যাসী',
আর বৈষ্ণব,বৈষ্ণবী ও আখড়া উদাসী।
এ যেন আখড়া আর সন্যাসীদের মেলা,
দেখলাম গঞ্জিকা সেবনের নানা খেলা।
গঞ্জিকাসেবন বুঝি সাধু সন্তের নানা ছল,
ভাষণ ও উপদেশ নিজের প্রচারের বল।
<------আদ্যনাথ রায় চৌধুরী----->
17/02/2025:: 09:20 am
===========================
Comments
Post a Comment