1064>|| বিজয়া সম্মিলনী--2024 ||

1064>|| বিজয়া সম্মিলনী--2024 ||

               ------বাংলা ১৪৩১ সন 

              <----আদ্যনাথ-->

              (1)

নমস্কার, উপস্থিত সকলকে জানাই আমার আন্তরিক  প্রীতি ও শুভেচ্ছা।

আজ আমরা যে বিজয়কে সম্মান জানাতে এখানে  জড়ো হয়েছি সেই বিজয়া তথা 'মা' ভগবতী রূপে 'মা' দুর্গাকে প্রনাম::----

--

 "দশকরধারিনি শঙ্করি শুভদে,

  হরি-হর-বিধিনুত-মঙ্গল-বরদে।

  জয় জগদীশ্বরি শাম্ভবি বিমলে,

  মম নতিরেষা তব পদকমলে।।"


ওঁ সর্বমঙ্গলমঙ্গল্যে শিবে সর্বার্থসাধিকে |

শরণ্যে ত্র্যম্বকে গৌরী নারায়নি নমোহস্তুতে||

সৃষ্টিস্থিতি বিনাশানাং শক্তিভূতে সনাতনি |

গুণাশ্রয়ে গুণময়ে নারায়নি নমোহস্তুতে||

শরণাগত দীনার্ত পরিত্রাণ পরায়ণে |

সর্বস্যার্তি হরে দেবি নারায়নি নমোহস্তুতে||

জয় নারায়নি নমোহস্তুতে | 

জয় নারায়নি নমোহস্তুতে |

জয় নারায়নি নমোহস্তুতে | 

              (2)

বিজয়া সম্মিলনী অর্থাৎ আশ্বিন শুক্ল  দশমী তিথির তিনটি বিজয় উৎসব কে সন্মান জানাতেই এই বিজয় উৎসব।

এই দিনে 'মা' মহামায়া, অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে বিজয় লাভ করেছিলেন, সেই বিজয়কে শ্রদ্ধা জানাতেই এই "বিজয়া দশমী"।

এখানে, বিজয়া বলতে, দেবী দূর্গার অসুর বিনাশিনী শক্তিকেই স্বাগত জানানো হয়।

অথবা অসুর শক্তির বিরুদ্ধে নারী শক্তির জয়লাভকেই "বিজয়া" বলে চিহ্নিত করা হয়।  

 মাতৃ স্বরূপিনী  'মা' ভগবতী তথা 

এক নারীর দ্বার অসুর সংহার  বা নারীর অসীম ক্ষমতাকেই সন্মান জানাতে আমরা বৎসর ভর অপেক্ষা করি। 

প্রতিদিন-দিনগুনি  --আবার কবে হবে দুর্গা পূজা।

এই দুর্গা পূজাই যেন আমাদের প্রানের পূজা, আমাদের হৃদয় স্পন্দন, আবালবৃদ্ধবনিতার অপেক্ষা মনেপ্রাণে জেগে ওঠা আনন্দস্রোত, সকলের মনেই সুরু হয় নুতন স্বপ্ন দেখা নুতন সাজগোজ নুতন পরিধান।

                      (3)

শরতের  আকাশে সাদা মেঘের আনাগোনা ও মাঠে ঘাটে কাষফুলের সমারোহ জানিয়ে দেয় মা দুর্গার আগমনের  আগাম বার্তা।

তারপরেই শুরু হয় আমাদের কাঙ্ক্ষিত দুর্গাপূজা।

আজ মহাসমারোহে পার হোল এবারের 

(2024) বাংলা ১৪৩১ সালের আমাদের দুর্গা পূজা।

অফুরান আনন্দে কেটে গেল চারটি দিন,

'মা' এসেছিলেন মৃন্ময়ী রূপে আমাদের ঘরে,

'মা' চলেগেলেন  হৃদয়ে কিছু বেদনা ভরিয়ে।

ষষ্ঠী শুরু মায়ের পূজা

নবমী নিশিতেই শুরুহয় বেদনার রেশ,

দশমীতে বিদায়ের সুর উমাকে ঘিরে,

আজ তাঁকে যেতে হবে কৈলাশেতে ফিরে।

'মা'- যুদ্ধ ক্লান্ত, নয় দিন  নয় রাত্রি, অসুরদের সাথে যুদ্ধ চলেছিল অবিশ্রান্ত,

অসুর দমনে দেবী বার-বার হয়েছেন অশান্ত, বিভ্রান্ত,

মর্তে এসে, মায়ের আঁচলে 'মা'হয়েছেন তৃপ্ত-শান্ত।

                     (4)

দেবী চারদিন সাকার রূপে মর্ত্যে পূজা গ্রহণ করেছেন, 

নিরাকার রূপে কৈলাশে  ফিরে গেছেন,

জানি দেবী মাতৃ রূপে আমাদের হৃদয়েই আছেন।

ঠাকুর রামকৃষ্ণ দেব বলেছেন::--,

 ‘এই-কদিন বাইরের দালানে বসে মা পূজা নিয়েছেন, 

আজ থেকে মা আমাদের হৃদয়মন্দিরে বসে পূজা নেবেন।’ 

তাইতো দশমীর বিসর্জনের পরে আমাদের

মন ভারাক্রান্ত হলেও এক ঐশ্বরিক আনন্দে হৃদয় ভরে থাকে।

'মা' দুর্গা প্রতিমা নিরঞ্জনের পরে,

পরস্পর  নমস্কার ও প্রীতি শুভেচ্ছা জানাবার উৎসবে,

তাইতো বিজয়া-সম্মিলনী উৎসব, 

এক মহা-মিলনের আনন্দ উৎসব।  

মা জগজ্জননী ভগবতী পরমেশ্বরীর

শরণাগত হলে তিনি মানুষকে ভোগ, স্বর্গ ও 

অ-পুনরাবর্তি মোক্ষ প্রদান করেণ।

অর্থাৎ মনুষ্য জীবনের জন্ম মৃত্যুর 

অন্তহীন চক্র থেকে মুক্ত করেন, সকল 

অহংকারের ধ্বংস করেন।

                    (5)

মহামায়াকে আরাধনা করে ঐশ্বর্যকামী রাজা সুরথ অখন্ড সাম্রাজ্য লাভ করেছিলেন, 

আর বৈরাগ্যবান সমাধি বৈশ্য দুর্লভ 

জ্ঞানলাভের ফলে মোক্ষ প্রাপ্ত হয়েছিলেন।

 'মা' ভগবতীর শরণাগত হয়ে কত পাপী

তাপী উদ্ধার হয়েগেছেন,

না জানি কত আর্ত, অর্থার্থী, সাধু-সন্ত তথা ভক্ত নিজ নিজ মনের ইচ্ছা পূরণ করতে সক্ষম হয়েছেন।

মায়ের আঁচল ও জন্মভূমি উভয়ই

শ্রেষ্ঠ শান্তির স্থান নিশ্চয়।

মায়ের থেকে বড় যোধ্যা কেউ কোথাও নয়।

 দুনিয়ায় 'মা'-ই সর্বশ্রেষ্ঠ তাতে নেই কোন সংশয়।

'মা'- মৃন্ময়ী নয় চিন্ময়ী রূপেই আছেন  সকল মাতৃহৃদয়ে এই সংসার ময়।  

                    (6)

 আজ আমাদের এই উৎসব,

সমগ্র দেশের উৎসব,

বলতে গেলে প্রায় সমগ্র বিশ্বের উৎসব।

উত্তর ও মধ্য ভারতের বিস্তীর্ণঅঞ্চলে

উদযাপিত হয় দশেরা---

যা ভগবান শ্রীরাম চন্দ্র দ্বারা দশানন রাবণ বধের আখ্যান কেই সূচিত করে।

আবার রাবণ-বধের পরে আশ্বিন মাসের ৩০ তম দিনে  শ্রী রামচন্দ্র, মাতা সীতা ও লক্ষ্মণ ফিরে আসেন অযোধ্যায় পিতৃ গৃহে।

রাবণ-বধ ও রামচন্দ্রের  প্রত্যাবর্তন 

এই দুই উপলক্ষেই পালন করা হয়,

যথাক্রমে দশেরা ও দীপাবলি উৎসব। 

           (7)

আবার মহাভারতে পাই, 

দ্বাদশ বৎসর অজ্ঞাতবাসের শেষে 

আশ্বিন মাসের শু‌ক্লা দশমীতেই পাণ্ডবরা 

শমীবৃক্ষে লুকিয়ে রাখা তাঁদের অস্ত্র পুনরুদ্ধার করেন  এবং ছদ্মবেশ-মুক্ত হয়ে নিজেদের প্রকৃত পরিচয় ঘোষণা করেন।

এও এক বিজয় উৎসব রূপে চিহ্নিত।

যা 'বিজয়া দশমীর' তাৎপর্য বৃদ্ধি করে। 

সেই হেতু বিজয়া দশমী,দশেরা এবং দীপাবলি,

আমাদের হৃদয়ের উৎসব বলে মনে করি।  

এ-হেন বাৎসরিক মিলন উৎসব পালন

এক মহান শ্রদ্ধা জ্ঞাপন উৎসব যা আমাদের সর্বদাই অকৃপণ বর দান করে , সর্বাবস্থায় জয় দান করে এবং সম্যক অভয় দান করে, আর সেই কারণে 

 এই মিলন এক মহামিলন।

এই  মিলনে উদ্দীপ্ত তেজ ও আনন্দ, কেবল তৃপ্তি নয়,  আমাদের শক্তিও দান করে।   

সেইহেতু এই বিজয়া- সম্মিলনী পালন

অর্থাৎ আমাদের হৃদয়ে শক্তির জাগরণ।


সময় গতিশীল চঞ্চল সর্বদা এগিয়ে চলে,

বয়স তো বেড়েই চলে, প্রকৃতির অমোঘ নিয়ম বলে।

আমাদের কজন বন্ধু আজ একটু অসুস্থ,

জানি শীঘ্রই হয়ে উঠবেন সুস্থ।

           (8)

ওনাদের সুস্থতার জন্য  প্রার্থনা করি,

অতিশীঘ্রই আমাদের সান্ধ্য আড্ডায় সামিল হবেন ওনারা।

ওনারা সর্বদাই আছেন আমাদের মনে,

আছেন আমাদরে হৃদয়ের গভীরে।


ওনাদের সুস্থ্ থাকাটাই আমাদের প্রেরণা,

ওনাদের ভালোবাসাই আমাদের কামনা।

ওনাদের শুভেচ্ছাই আমাদের চলার গতি,

ওনাদের আশীষ আমাদের জীবনী শক্তি,


আমরা একসাথেই চলবো,

এমনটাই হোক আমাদের কামনা ও প্রতিশ্রুতি।

আমরা সকলে আছি নিজের মতন করে,

আছি বর্তমানকে জাপটে ধরে।


সকলের আশীষ ও ভালোবাসা,

আমাদের একান্ত চাহিদা ও আশা,

দূরে নয় আমরা আছি কাছা-কাছি,

আমরা একসাথে থাকতেই ভালোবাসি।

নিত্য নুতন ভাবনা নিয়েই আছি,

ভাবনাকেও মিত্রতার বন্ধনে জুড়ে রাখি।

           

আমাদের সান্ধ্য আড্ডার দুই-চার ঘণ্টা

প্রাঞ্জল সময়ে বাঁধা পরে আমাদের মনটা।

আড্ডা আমাদের সুখ-দুঃখ ভাগকরে নেবার ঠিকানা,

তাই তো আমাদের শ্যামবিহার ফেজ2 এর আড্ডার নাই কোন তুলনা।


             ------নমস্কার-----

      <------আদ্যনাথ রায় চৌধুরী------>   

        21/10/2024;;  03:30 pm                 

==========================

আজ 21/10/2024 সন্ধ্যা আটটা 05 মিনিটে আমাদের সান্ধ্য বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠানে এটি পাঠ করলাম।

=======================

Comments

Popular posts from this blog

1087> || আজ হোলি ||-2025

1093>|| মৃত্যু::---||

1088>|| হার--জিত ||