1054>|| নীলকন্ঠ ||

 


   1054>|| নীলকন্ঠ ||

           <----আদ্যনাথ---->

কিছু শুনেও না-শুনে,

কিছু বলেও না বলে,

কিছু কথা না বলে,

কিছু সুখ হয় কি তাহলে।


তাই বুঝি শিব বোম ভোলে,

লোকে তারে নীল কন্ঠ বলে।

মানুষ হয়েও বিশাল মস্তক, শুঁড়,

বুদ্ধির সাগর শান্ত অতি বীর ধীর।


আর তেজে দীপ্তি শ্রেষ্ঠ শক্তি বলে,

দেব সেনাপতি বীর যোদ্ধা বলে।

এইতো সৃষ্টি স্থিতি লয়ের অধিকর্তা,

আছেন মা অসুরে বোধিতে সর্বদা।


তুমি নিজে অসুর হইলে নিজেই নিজেরে বোধিবে।

জীবন নিজেই এক মহাকাল,

যার নাই আদি অন্ত,আছেন সর্বকাল,

মানুষ লোভে ও অহঙ্কারেই মত্ত

তাই বোধহয় জীবন ব্যতিব্যস্ত।


লোভে পাপ পাপে মৃত্যু

তথাপি লোভই যেন আনন্দ সত্য।

লোভের আনন্দ ক্ষনিকের তরে

লোভাতুর তথাপি তারে আঁকড়ে ধরে।


কিছু শুনে বলে লাভ কি হবে,

কেউ কিতার স্বভাব পাল্টাবে?

যেমন চলছে তেমনি চলবে,

জীবনে জীবন যোগ গভীর অন্ধকারে।


শিব পূজা আরাধনা অভিষেকেই ক্ষান্ত,

শিবমর্ম বুঝতেই জীবন ক্লান্ত।

তথাপি কতনা প্ৰচেস্টার বাহার,

শিব লিঙ্গে জলাভিষেক বারংবার।


শিব তো জল ও একটি বেলপাতাতেই তুষ্ট

সদানন্দ যেন,

তথাপি এতো দুধ,ঘী,মধু দ্বারা অভিষেক কেন।

শিবতো সদা তুষ্ট তাই কৃচ্ছসাধনে মুক্তি,

তবে এতো পায়ে হাঁটার কষ্ট সাধনে কি যুক্তি।


সেদিন শ্রাবণে সমুদ্র মন্থনের  হলাহলে

যখন জর্জরিত ধরিত্রী ত্রাহি ত্রাহি,

মহাদেব সেই হলাহল পানকরে হয়েছিলেন

আকণ্ঠ,

তাইতো মহাদেব হলেন নীলকন্ঠ,

আবার মাতৃ স্তন পানে মহাদেবের বিষজ্বালা হল শান্ত।

তাইবুঝি শ্রাবনে শিবলিঙ্গে ঢেলে জল

হতে চাওয়া পাপমুক্ত।

★★

শ্রাবণ মাসে, ভক্তরা শিবের আশীর্বাদ পেতে প্রতি সোমবার উপবাস পালন করে থাকেন। বিবাহিত মহিলারা সুখী দাম্পত্য জীবন কামনা করেন, অবিবাহিত মহিলারা উপযুক্ত জীবনসঙ্গীর জন্য প্রার্থনা করেন। 

শিবের আশীর্বাদ পেতে শ্রাবণ মাসে গঙ্গা থেকে জল কলসে ভরে, বাঁক কাঁধে নিয়ে রাস্তায় হেঁটে শিবলিঙ্গের মাথায় জল ঢালেন ভক্তরা ফুল বেল পাতা দিয়ে।

এভাবেই শিবকে করেন তুষ্ট, 

মনের চাওয়া সকল পাপ মুক্ত।

<----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->

         ১লা শ্রাবণ ১৪৩১;;

          17/07/2024 বুধবার।

=======================






Comments

Popular posts from this blog

1087> || আজ হোলি ||-2025

1093>|| মৃত্যু::---||

1088>|| হার--জিত ||