1031>|| সুখ দুঃখ মনের ভাবনা(1--2) ||

      1031/1>||  সুখ দুঃখ মনের ভাবনা ||

                  <-----আদ্যনাথ--->


প্রকৃত সুখ ও দুঃখ মানুষের অজানা,

সুখ দুঃখ উভয়ই মনের ভাবনা।

মানুষের মনে আজ যা সুখের কারণ,

কাল সেটাই হতেপারে দুঃখের কারণ।


দুঃখ বিনা সুখ রায়না ভুবনে,

সুখ দুঃখ একে অন্যের কারণে।

সুখ দুঃখ একে অন্যের পরিপূরক মাত্র,

সুখ দুঃখ ক্ষনিকের প্রকৃতির লীলা মাত্র। 


সুখ সেটুকুই.. যেটুকু নাগাল পাওয়া যায়,

নাগালের বাইরের গুলিই দুঃখ মনে হয়।

নাগালের বাইরে ধরে রাখতে গিয়ে সুখ ফসকে যায়,

আর সুখের বদলে সবটুকু দুঃখই রয়ে যায়।


এভাবেই সুখ কে হারিয়ে দুঃখকে আঁকড়ে ধরে ফেলি,

লোভে পাপ,পাপই মৃত্যুর এমন কারণ গুলি,

বাড়ন্ত লোভ লালসা বড়ই ভয়ঙ্কর তামাশা,

জীবন ভুলে যায় ত্যাগেই শ্রেষ্ঠসুখ ভালবাসা।


সুখ দুঃখ উভয়ই ক্ষণ স্থায়ী মাত্র,।

সময়ে সবই আশার ছলনা মাত্র,

যা আছে আরও পাবার চেষ্টা মাত্র,

আশা আছে তাই লোভ বাড়ে সর্বত্র।


আশা ছাড়া বাঁচেনা জীবন,

আশার বার বাড়ন্ত লোভের কারণ।

লোভ তো ভয়ঙ্কর মনের বিকারের কারণ,

বড়ই কঠিন এই লোভের সংবরণ।

       <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

   06/02/2024::11:48am= 1031

========================


   1031/2>|| সুখের সন্ধানে ||

             <----আদ্যনাথ---->

সুখ ও আনন্দের খোঁজেই ব্যস্ত সর্বক্ষণ।

মানুষের চরম লক্ষ্য সুখ নয়, "জ্ঞান"।

ক্ষণস্থায়ী সুখের আশাই জীবনের চরম ভুল।

তবুও মানুষ সুখের সন্ধানে মশগুল।



জ্ঞান,মোক্ষ, কৈবল্য ই জীবনের লক্ষ্য,

পাশ্চাত্য দর্শনে আছে কিছু পার্থক্য।

পাশ্চাত্য,সুখকেই বেশি গুরুত্ব দেয়ে,

সুখ ও আনন্দ গভীর আলোচ্য বিষয়।


তবে উপনিষদের ব্যাখ্যা যা আমাদের সুখ দেয় সেই প্রেয়, 

আর যা যথার্থ কল্যানকারী তা শ্রেয়।

গীতায় উল্লেখ আছে সুখ তিন প্রকার

সাত্ত্বিক,রাজসিক,তামসিক।


সাত্ত্বিক সুখ =শুরুতে কষ্ট দায়ক কিন্তু পরিণামে অমৃতসমান।


রাজসিক সুখ =প্রথমে লোভনীয় শেষে বিষের সমান। যেমন ইন্দ্রিয়ভোগ ও বিষয়নির্ভর সমস্ত সুখ।


তামসিক সুখ=নিদ্রা ও আলস্য সুখ অর্থাৎ অজ্ঞান ও মোহবন্ধন বৃদ্ধি কারক।


চিত্তবৃত্তি- নিরোধে প্রাপ্ত আত্যন্তিক সুখকেই গীতায় সর্বোৎকৃষ্ট সুখ বলা হয়েছে এবং সেই সুখই জীবনের লক্ষ্য।


★★【আত্যন্তিক /অত্যধিক, যৎপরোনাস্তি; অশেষ পরিমাণ বিশিষ্ট বা মাত্রাযুক্ত।】


আত্মদর্শনের দ্বারা প্রাপ্ত ইন্দ্রিয়াতীত চরম সুখ কেবল বুদ্ধি দিয়ে উপলব্ধি করা যায়।

এই সুখের স্বাদ যে পেয়েছে তার কাছে আর সমস্ত সুখই তুচ্ছ ।

জ্ঞান বা অমরত্বের সঙ্গে আনন্দকেও জীবনের উদ্দেশ্যরূপে স্বীকার করা হয়।

আসলে সৎ-চিৎ-আনন্দ,  অস্তি-ভাতি-প্রিয়,  অথবা

সত্যম্-শিবম্-সুন্দরম্ একই সত্তার তিনটি বিভিন্ন দিক। একে অপরের থেকে পৃথক নয়।

শব্দের ব্যবহার কৌশলে  এদের পৃথক বলে মনে হলেও প্রকৃত কক্ষে কেহই পৃথ্যক নয়।

"যা জ্ঞান তাই আনন্দ, 

আবার যা নিত্য তাও আনন্দ।"

"এই তিনটিই আমাদের  আত্মার যথার্থ স্বরূপ।"

"নিজের আত্মস্বরূপ , আনন্দময় স্বরূপের সাক্ষাৎ করাই জীবনের লক্ষ্য।

এই উপলব্ধি ব্যতীত শাশ্বত সুখ বা শান্তিলাভ সম্ভব নয়।"


এই সুখেরও রকম ভেদ আছে,

শিশু বা বাল্য অবস্থার সুখ

বিষয় সম্পত্তি ভোগের সুখ,

রাজা, মহারাজার সুখ,

জ্ঞানী বা পন্ডিতের সুখ,

নিদ্রা অবস্থার সুখ,

তুষ্টভাবের সুখ,


যে জন অন্যের হাতে তুলেদের নিজের ভালো থাকাকে,

সেইতো শ্রেষ্ঠ দুঃখী এই  সংসারে থেকে।

সংসার সুখের হয় ভালোবাসার গুণে,

জীবন দুঃখের হয় অন্যের দোষ খোঁজার কারণে।

  <------আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->

==========================


   






Comments

Popular posts from this blog

1087> || আজ হোলি ||-2025

1093>|| মৃত্যু::---||

1088>|| হার--জিত ||