1020>|| সেদিনের চড়ুইভাতি ||
1020>|| সেদিনের চড়ুইভাতি ||
<--আদ্যনাথ-->
মনেপরে সেদিনের সেই চড়ুইভাতি,
ছোটবেলায় সব বন্ধুরা মিলে,
ভীষণ আনন্দের সেই শীতের সকালে,
ভালোলাগার শ্রেষ্ঠ অনুভূতির কালে।
একদিন ছিল আমাদের শৈশব,
আর ছিল চড়ুইভাতি আনন্দের উৎসব।
আজ হারিয়ে গেছে সেই ছোট বেলা
হারিয়ে গেছে আমাদের ছেলে বেলা।
পিকনিক হয়তো আজও হয় শীতকে উপলক্ষ করে
কিন্তু সেই মনকে কি খুঁজে পাই আজকের দিনে?
আছে কি সেই নিজেদের রান্না করার আনন্দ?
আছে কি সেই প্রাণ খোলা মেতে ওঠা আনন্দ?
সেদিনের অনাড়ম্বর কিন্তু অনুভূতির সেই ক্ষণ,
আজও শীতের সকালে রোদে বসে মনে পরে সেই ক্ষণ।
কত চিন্তা ভাবনার হিসেব নিকেশ,
দিন ভর কত জল্পনা কল্পনার আবেশ।
আমরা সকলে জড়ো হতাম,
কদিন আগে থেকে স্কুলে, খেলার মাঠে
জল্পনা চলতো সকলে মিলে একসাথে।
সলের উৎসাহ কাজ বেছে নিতে,
হবে চড়ুইভাতি বন্ধুরা একসাথে,
মিলের মাঠের ওই জাম গাছের নিচে,
31সে ডিসেম্বর বা 1লা জানুয়ারিতে,
শীতে রোদ পোহাতে পোহাতে।
ইট দিয়ে উনুন বানিয়ে,
রান্না করতাম কাঠ জ্বালিয়ে।
নাকে মুখে ধোঁয়ার তীব্র দাপটে,
আগুন জ্বালাতেই রান্না বুঝি লাটে ওঠে,
ধোঁয়ায় চোখ লাল হয়ে যাওয়া,
তবুও কোন ভাবেই হার না মানা।
নির্দিষ্ট দিনে উৎসাহের চরম ক্ষণে,
অফুরন্ত উন্মাদনার সেই নির্দিষ্ট দিনে
সকলেই ব্যস্ত নিজের জোগান দিতে,
কেউ আনতো সর্ষের তেল শিশিতে।
কেউ আনতো নুন, কেউ তরকারি,
আর কেউ আনতো কিছু মসলা বাটা।
সকলেই যে যার মতন কিছু চাউল
আলু,পিয়াজ যে যেমন পারতো।
কারুর বাবা হয়তো দিতোএকটা মুরগি
আদর করে,
কখনো চেয়ে চিন্তে হাস জোগাড় হতো অনেক কষ্ট করে।
আমরা নিজেরাই রান্না করতাম নিজের মতন করে।
সেই রান্না শেষ হতেই বেলা হতো,
খেতে খেতে দুপুর গড়িয়ে যেতো।
সেই রান্না, প্রচন্ড খিদের পেটে,
সবাই খেতাম অমৃতজ্ঞানে চেটে পুটে।
চড়ুইভাতির আসল ছিলো আনন্দ,
মিলে মিশে কাজ করা আর খাবার আনন্দ।
রান্না যেমনি হোক থাকতো সকলের মুখে হাসি,
সবশেষে সকলেই হাসতো সেই তৃপ্তির হাসি।
সেদিনের চড়ুইভাতির সেই রঙিন স্বপ্ন,
আজও মনকে ছুঁয়ে যায় ভাবনার সেই স্বপ্ন।
<--আদ্যনাথ রায় চৌধুরী-->
============================
Comments
Post a Comment