1005>|| শরত নির্মল সুন্দর || +ভাই ফোঁটা,

 1005>/1)|| শরত নির্মল সুন্দর || 

                2) ||  ভাই ফোঁটা  ||

    ========================


1005>|| শরত নির্মল সুন্দর || 

               <---আদ্যনাথ--->

শরতের নির্মল সুন্দর আকাশ,

পেঁজা তুলোর মতন সাদা ছেঁড়া ছেঁড়া

মেঘ ভরা আকাশ।

শিউলি ফুলের গন্ধ মাখা শান্ত শীতল বাতাস।

মাঠে মাঠে কাশফুলে ভরা সুন্দর শরতের প্রকাশ।

মানুষের আহ্লাদ তো এই সকল নিয়েই। 

শরতের নিজেস্ব অপরিহার্য সুন্দর কিছু ম্যাজিক আকর্ষণ, যে আকর্ষণ 

পাগল করে দেয় মানুষ কে।

তাইতো ভালোলাগে শরতকে।


শরত মানেই পুজোর আনন্দে মেতে ওঠা,

শরত মানেই আনন্দের দুর্গাপূজো,

শরত মানেই নুতন জামা জুতো,

শরত মানেই নুতনকে খুঁজে পাওয়া,

শরত মানেই প্যাডেলে প্যাডেলে ঠাকুর দেখা।

শরত মানেই মনের আনন্দে স্বপ্ন দেখা,

শরত মানেই মনের গভীরে ভালোবাসাকে খুঁজে পাওয়া।

শরত মানেই সকল পরিবার এক হওয়া,

শরতের পরেই আসে ভাই ফোঁটা,

বোন দেবে ভাইয়ের কপালে ফোঁটা,

চন্দন,কাজল,আর ঘিয়ের ফোঁটা,

এমন দিনকে তো যায়না ভোলা।


আজ শরত প্রকৃতি বোধহয় রুষ্ট,

তাই বুঝি শরতের এই অনাসৃষ্টি,

উত্তর ভারতে প্রবল বর্ষণ 

সিকিমের ভীষণ দুর্দশা,

তিস্তা দেখাচ্ছে তার ধ্বংসলীলা

ক্রোধে ভেঙে চলেছে বাঁধ ব্যারেজ

চারিদিকে মানুষের হাহাকরে।

আমরা করছি প্রকৃতির ধ্বংস,

প্রকৃতিও দিচ্ছে প্রতিদান ধ্বংস,

তাইতো ভাবনা শান্ত সুন্দর শরতও

আজ ক্রুদ্ধ রুষ্ট।

   <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

      06/10/2023::;  9:43:12am.

==========================

     2) ||  ভাই ফোঁটা  ||

                 <---আদ্যনাথ--->

সেদিন ভ্রাতৃদ্বিতীয়ার সকালে,

যাচ্ছিলাম বোনের বাড়ি বারাসাতে,

বোন ডেকেছে ভাই ফোটা নিতে,

দাঁড়িয়ে আছি ট্রেনের অপেক্ষাতে।

দেখলাম ষ্টেশনের  সিঁড়ির নীচে,

প্লাস্টিকে ঢাকা ছোট্ট এক ঝুপড়ি ঘরে,

বোন দিচ্ছে ভাইকে ফোঁটা আদর করে।

জানিনা চন্দন আর ঘি ছিলকিনা?

তবে কাজল দেখেছিলাম,

বোধ হয় কিছু কাগজ পুড়িয়ে

ওরাই বানিয়ে নিয়েছে।


ভাইও দিয়েছিল বোনকে উপহার, 

নিজের অর্ধেক বর্ন রুটির উপহার।

তার পরে দুজনে খেলো ভাগকরে,

ভীষণ আনন্দে খাচ্ছিলওরা দুজনে।

এমন সুন্দর ভাইফোঁটা দেখছিলাম 

ভীষণ মনোযোগ দিয়ে,

ওদের বুঝতে না দিয়ে।


পাশেই ছিল লুচি তরকারির ঠেলা,

দুইপ্লেট কিনে দিলাম ওদের হাতে।

ওরা এক প্লেট খেল আনন্দে ভাগকরে, 

একপ্লেট রেখে দিলো মায়ের জন্য আদরে।

আমি মনে ভাবছিলাম যদি ওদের

খাওয়াতে পারতাম পেট ভরে,

কি মজাই না হতো এই ভ্রাতৃদ্বিতীয়ার

সকালে।

সেদিন ছিলাম স্কুল স্টুডেন্ট,

টিফিনের পয়সা টুকুই ছিল পকেটে,

আরছিল ট্রেনের রিটান টিকিট খানি।


আজও সেদিনের সেই ছবিই মনে ভাসে 

এই  বৃষ্টি ভেজা শরতে,

স্টেশনের এই সিঁড়ির পাশে দাঁড়িয়ে।

আজ ওরা নাই এখানে।

এখন তো স্বচ্ছ স্টেশন পালন হচ্ছে,

জানিনা আজ সেই ভাই বোন 

কোথায়, আছে কেমন?

আবার আসছে দুর্গাপূজো,

ভ্রাতৃদ্বিতীয়ার ভাই ফোঁটা।

আজও ভুলতে পারিনি ওই 

ছোট্ট ভাই বোন দুটি কে।

ভুলতে পারিনি সেদিনের, 

ওই বোন দিচ্ছে ভাইকে ফোঁটা।

 স্বপ্ন নয় বাস্তবে ফোঁটা দেওয়া।

<-----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

        6/10/2023::;  01:25:20 am.

==========================



Comments

Popular posts from this blog

1087> || আজ হোলি ||-2025

1093>|| মৃত্যু::---||

1088>|| হার--জিত ||